
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতার চিত্র (জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২০):
গতবছর রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে কমপক্ষে ১৯ জন আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণ/গণধর্ষণ, অপহরণের পরে ধর্ষণ, ধর্ষণের পরে হত্যা, শারীরিক লাঞ্চনা ও আক্রমণ, ধর্ষণের চেষ্টা, অপহরণ এবং অপহরণের চেষ্টার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ ঘটনাই গতবছরের শেষ চার মাসে সংঘটিত হয়েছে।
ধর্ষণ/গণধর্ষণ এর শিকার হয়েছে ৭ জন, ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছে ১ জন, শারীরিক লাঞ্চনা ও আক্রমণের শিকার হয়েছে ১ জন, ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে ৯ জন এবং অপহৃত হয়েছে ১ জন।
গতবছর মাত্র ২ জন ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের বিষয়টি জানা গেছে। তাছাড়া বেশীরভাগ ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে।
আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতার দুইটি ঘটনা গতবছর বেশ আলোচিত হয়েছে।
একটি হলো মুষহর জাতির একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কন্যা রুখিয়া রাউতকে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা। গত ৬ অক্টোবর ২০২০ তারিখ ভোরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পাঁচপুকুরিয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে শালবাগানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রুখিয়া রাউত এর লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে এই ঘটনায় মূল ৩ জন আসামীর মধ্যে ৩ নম্বর আসামী মোঃ আশিকুর ওরফে আশিকুজ্জামান (৩২) জামিনে জেল হাজত থেকে ছাড়া পেয়েছে। তবে অপর আসামীদ্বয় ১ং আসামী মোঃ আনিছুল হক (৩০), ২ নং আসামী মোঃ রাজ উদ্দিন ওরফে রাজ (২৫) এখনো জেল হাজতে আছে।
অপর আলোচিত ঘটনাটি হলো রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকায় “সাধুজন মেরী ভিয়ান্নী গির্জায়” তিনদিন ধরে আটকে রেখে ১৫ বছর বয়সী এক আদিবাসী কিশোরীকে গির্জার ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা। জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে ওই গির্জার পাশে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে তাকে না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীর ভাই স্বপন হাঁসদা নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করেন। পরে থানা পুলিশ ২৯ সেপ্টেম্বর নির্যাতিত কিশোরীকে গীর্জা থেকে উদ্ধার করে। অভিযুক্ত ফাদার কয়েকদিন পালিয়ে থাকলেও শেষপর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
গতবছর ঘটে যাওয়া আদিবাসী নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যান্য ঘটনাগুলো সংক্ষেপে নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
গত ১৬ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ সকাল ৬টায় দিকে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার এনায়েতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণী আদিবাসী ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় এনায়েতপুর বাজারে পৌঁছালে অভিযুক্ত খমেজ উদ্দিন ঐ ছাত্রীকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে তার দোকান ঘরে দোকানের দরজা বন্ধ করে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়াসহ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি কান্না শুরু করলে খমেজ তাকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। ওই দিন মেয়েটি প্রাইভেট না পড়তে না গিয়ে বাড়ী ফিরে কাঁদতে থাকে ও পরবর্তী দিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বাড়ীর লোকজন বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে পরদিন রাতে সে তার চাচিকে বিষয়টি জানায়। ১৮ জানুয়ারি সকালে সকালে এব্যাপারে মেয়েটির মা বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ বেলা ১০ টার দিকে অভিযুক্ত খমেজকে তার দোকান থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
গত ৩ জুন ২০২০ তারিখে নওগাঁর মহাদেবপুরে সফাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামের আদিবাসী এক বিধবা নারী রাত ১০টার দিকে প্রকৃতির ডাকে বাড়ির বাইরে গেলে পার্শ্ববর্তী পবাতৈড় গ্রামের মৃত মোসলেমের ছেলে আজাদুল ইসলাম ওরফে জারদেশ (৩৫) ঐ বিধবাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় বিধবার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আজাদুলকে আটক করে। বিষয়টি তার ভাই একরামুল হক (৪০) জানার পর লোকজন নিয়ে এসে আজাদুলকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ৩০ জুলাই বিধবা আদিবাসী নারী বাদী হয়ে নওগাঁ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দুই ভাইকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর গত ১৬ আগস্ট আসামি দুইজনকে আটক করে পরদিন আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে আবার ওই বিধবার পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে।
গত ৫ জুলাই ২০২০ তারিখে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়চন্ডীপুর বারকোনা গ্রামের সপ্তম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত এক সাঁওতাল কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে পার্শবর্তী কালিকাবাড়ী ডাঙ্গা পাড়ার হাসিবুর রহমান, পিতা: আব্দুর রশিদ ও কারেন্টের হাট সংলগ্ন গ্রামের বেলাল, পিতা: ফয়জার রহমান ধর্ষণ করার চেষ্টা করে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় কিশোরীর মা রোসনা বাসকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
গত ৮ আগষ্ট ২০২০ তারিখ রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের ইটাহারী আদিবাসী গ্রামে দিবাগত রাতে প্রতিবেশি জহুরুল ইসলাম (৪৫) ভুক্তভোগী আদিবাসী নারীর ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এসময় ঐ নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জহিরুল ইসলামকে হাতে নাতে ধরে ফেলে এবং আটক করে রাখে। পরে জহিরুলের লোকজন এসে আদিবাসীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ৯ আগষ্ট ২০২০ তারিখে গোদাগাড়ী থানায় ঐ আদিবাসী নারী একটি অভিযোগ দায়ের করেন। গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ১০ আগষ্ট ২০২০ তারিখে অভিযুক্ত জহুরুলের ছেলে আব্দুর জব্বার (২২), আনিকুল (২৪) এবং জালাল উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০) কে গ্রেপ্তার করে।
গত ৩১ আগস্ট ২০২০ তারিখ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার চাঁনের ডাঙ্গা (সিতুংটলা) সাঁওতাল গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৩) একা পেয়ে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে পুলবান্ধা গ্রামের শম্ভু হোসেনের ছেলে শামিম হোসেন (১৬) ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ঐ কিশোরীর মা থানায় মামলা দায়ের করলে ১ সেপ্টেম্বর ভোরে ঐ যুবককে নিজবাড়ি থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
গত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের আজমপুর কাজিপাড়া গ্রামের পতন চন্দ্র রায়ের ছেলে তাপস চন্দ্র রায় বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে দাউদপুর ইউনিয়নের ডোমপাড় গ্রামের ও দাউদপুর মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর আদিবাসী এক কলেজ ছাত্রী (২০) কে দীঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগে নবাবগঞ্জ থানায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ ওই মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের ধরইল গ্রামের লগেন টুডু’র স্ত্রী মর্জিনা বাসর্কী (৪৫) কে আমনুরা ধিনগরে চার্জারভ্যান থেকে টেনে নামিয়ে বেধড়ক টিপিয়ে ৬০ হাজার টাকা ও ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় আমনুরা কলোনীপাড়ার মৃত আমির আলীর ছেলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহাবান আলী। উল্লেখ্য, উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর মৌজার একটি সরকারী খাস পুকুরে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে গন্ডগোল বিরাজমান ছিল। এ বিষয়ে নির্যাতিতার বোন শান্তনা বাস্কে নাচোল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে।
গত ৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের এক আদিবাসী নারী (২৫) কে বাড়ির বাহিরে টিউওবয়েল পাড়ে একা পেয়ে একই গ্রামের হবিবরের ছেলে লিটন হোসেন (২২) পেছন থেকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণ চেষ্টা করলে ঐ নারীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত লিটন হোসেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে ০৯ অক্টোবর তারিখে অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, ঐ আদিবাসী নারীকে অভিযুক্ত দীর্ঘদনি ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের জানিয়ে ও তাদের পরামর্শ নিয়ে অভিযুক্তকে সতর্কও করা হয়েছিল।
গত ১০ অক্টোবর ২০২০ তারিখে বিকেলে সাড়ে তিনটার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বলিয়াডাং গ্রামে এক আদিবাসী স্কুল ছাত্রী (১৪) প্রাইভেট পড়তে গেলে ঐ গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে আল আমিন (২৭) ধর্ষণের চেষ্টা করলে কিশোরীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে আল আমিন পালিয়ে যায়। যৌন হয়রানির শিকার স্কুলছাত্রীর বাড়ি বর্গিতলা গ্রামে। প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ রেকর্ড করে গোদাগাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে। পরে অভিযুক্ত বলিয়াডাং নামের যুবককে আটকের চেষ্টা চলছে।
গত ১২ অক্টোবর ২০২০ তারিখে রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলায় কলমা ইউনিয়নের স্বামী পরিত্যাক্তা এক আদিবাসী নারীকে (২১) স্থানীয় প্রভাবশালী চকনাকা শিমুলতলা নিচ পাড়া গ্রামের সাইফুদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩০) এর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তের বাড়ির সামনে রাস্তায় আটক করে নির্যাতন করা হয়। গ্রামবাসীরা ভুক্তভোগী ঐ নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। তবে এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তানোর থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি বলে জানা যায়।
গত ১৪ অক্টোবর ২০২০ তারিখে রংপুরের বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শিমুলঝুড়ি আদিবাসী গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তার নিজ বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালীর বখাটে সন্তান লায়লাতুল বরাত (১৯) শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে রংপুর জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়।
গত ২৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুইটি ঘটনায় ২ জন আদিবাসী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার তর্পণঘাট গোলাবাড়ী গ্রামে আদিবাসী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুনীকে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিবেশী লাল হেমব্রমের ছেলে কমলেশ হেম্ব্রম (৩০) ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ঐ তরুণীর বাবা নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে কমলেশ হেম্ব্রমকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর ঘটনায় উপজেলার চার্লিপাড়া গ্রামে আদিবাসী এক গৃহবধূকে বাড়িতে একা পেয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চাঙ্গুরা গ্রামের বিচার হেমব্রমের ছেলে গণেশ হেম্ব্রম (২৫) বেড়াতে এসে ধর্ষণ করে। আর তাকে সহায়তা করে তার সাথে বন্ধু খুদুক মার্ডির ছেলে অনিল মার্ডি (২৫)। গৃহবধূর চিৎকারে স্থানীয়রা গণেশ হেম্ব্রম ও অনিল মার্ডিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
গত ১৬ নভেম্বর ২০২০ তারিখে নওগাঁর বদলগাছীতে সুন্ধার উপজেলার মথুরাপুর ইউপির মাহমুদপুর গ্রামের অমল তিগ্যার ১০ বছরের শিশু কন্যাকে চকবেনি গ্রামের মৃত আকালুর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ওরফে ল্যাদো (৬৫) জোরপূর্বক গবরচাঁপা ব্রিজের নিচে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে বাড়িতে এসে শিশুটি পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি জানালে শিশুটির পরিবারের লোকজন বাজারে এসে ল্যাদোকে আটক করে থানায় খবর দিলে পুলিশ তাকে আটক করে। এ বিষয়ে শিশুটির বাবা অমল তিগ্যা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছে এবং আসামীকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গত ২৯ নভেম্বর ২০২০ তারিখে সন্ধ্যার সময় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কাকল বাড়িয়া গ্রামের দুলাল হোসেনের বখাটে ছেলে নাঈম স্বামী পরিত্যাক্ত এক আদিবাসী নারীর ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ওই নারী চিৎকার করলে গ্রামবাসী নাঈমকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বখাটে যুবককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় ধর্ষণ চেষ্টার শিকার নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
গত ২০ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে (১৫) ওসমানপুর বাজারের পার্শ্বে থেকে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ধুরইল গ্রামের নিরঞ্জন মাহাতো (২৭), লক্ষন মাহাতো (৫০), নিরতি মাহাতো (৫৫) অটোবাইক যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঐ স্কুল শিক্ষার্থীর মা মিনু রানী বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।#
সম্পূর্ণ রিপোর্টটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন