Home > Uncategorized > ‘অনন্যা ১০ নারী’র হাতে সম্মাননা’

শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই নারীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

এবারের ‘অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা’ যারা পেলেন. তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী রাজনীতিতে অবদানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন।

তবে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

অন্যদের মধ্যে শিক্ষায় সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক পারভীন হাসান, বিজ্ঞান গবেষণায় জিনবিজ্ঞানী অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ এবং অভিনয়ে সাবেরী আলম মোতাহের এই পুরস্কার পেয়েছেন।

কুটির শিল্পে দিনাজপুরের শোলাশিল্পী নিশা রাণী মালাকার, প্রতিবন্ধী অধিকারে আশরাফুন নাহার মিষ্টি, আদিবাসী অধিকারে সাঁওতাল নারী বাসন্তী মুরমু, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় সুরমা জাহিদ, খেলাধুলায় জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সহ-অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং অদম্য সাহসের জন্য নওগাঁর ঘোড়সওয়ার কিশোরী তাসনিমা আক্তারকেও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “নারীদের উপর অত্যাচার, নিপীড়নের কথা, তাদের অধিকারের কথা যতটা বলা দরকার, ততটা আমরা বলছি না। সব মত ও আদর্শ ভুলে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান।

তাসমিমা বলেন, “নারীর চোখে বিশ্ব দেখুন- এ স্লোগানে আমরা সারা দেশ থেকে আলোকিত নারীদের তুলে আনতে চাই।”

অনন্যা নারীদের কথা

সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি জানাতে এসে অধ্যাপক পারভীন বলেন, “আমরা যারা শহরে বড় হয়েছি, তারা অটোমেটিক্যালি অনেক সুযোগ পেয়ে গেছি।এখন গ্রামীণ নারীদেরও সমান সুযোগ দিতে হবে।”

এই সম্মাননা জিন গবেষণায় বেশি অনুপ্রাণিত করবে বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ।

“আমরা বিজ্ঞানীরা একটু বেরসিক বটে।কিন্তু জীববৈচিত্র্যের মূলে যে ডিএনএ, তা নিয়ে আমার গবেষণা।”

অভিনেত্রী সাবেরী আলম বলেন, “বোধের জায়গা থেকে, কর্মক্ষেত্র থেকে, বিশ্বাসের জায়গা থেকে আমি নতুন প্রজন্মের জন্য যেন কিছু করে যেতে পারি, সেই প্রার্থনা করবেন।”

কুটির শিল্পের বিস্তারে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান নিশা রাণী মালাকার। আর আদিবাসী নেত্রী বাসন্তী মুরমু আদিবাসী নারীদের নায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সমর্থন চান।

প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে ২১ বছর ধরে কাজ করছেন ‘প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের’ নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি।

তিনি বলেন, “আর দশটি সাধারণ মানুষের জন্য যা কিছু অসুবিধা, প্রতিবন্ধীদের জন্য সেই সমস্যা আরও দ্বিগুণ।

“আর প্রতিবন্ধী নারীর ক্ষেত্রে তা বেড়ে যায় বহুগুণে।প্রতিবন্ধী নারীর প্রতি সমাজ এখনও সহানুভূতিশীল নয়।প্রতিবন্ধী নারীকে তারা এখনও কটাক্ষ করে।”

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সুরমা জাহিদ নারী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর নির্যাতনের করুণ কাহিনি এবং যুদ্ধ পরবর্তী তাদের বিভীষিকাময় জীবনের গল্প বলার সময় পুরো মিলনায়তনে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।অনেকেরই চোখ ভিজে উঠে জলে।মতিয়া চৌধুরীকেও তখন আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায়।

সমাজের নানা জনের কটূক্তি ও বিদ্রুপসহ সব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলা ফুটবলার সাবিনা খাতুন বলেন, “লোকে তো কত কিছুই বলবে।এত কিছু কানে তুলতে আছে? আমাদের যে আরও এগিয়ে যেতে হবে।”

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকসুবল গ্রামের কিশোরী ঘোড়সওয়ার তাসমিনা আক্তার।ঘোড়দৌড়ে বাঘা বাঘা সব প্রতিযোগীকে হারিয়ে উপজেলা পেরিয়ে সে নাম কুড়িয়েছে দেশজুড়ে।তাকে নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আলোচিত হয়েছে।

তবুও দারিদ্র্যের কষাঘাতে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে কি না তা জানে না তাসমিনা।কৃষক বাবার সামর্থ্য নেই তাকে ভালো একটি ঘোড়া কিনে দেওয়ার।কিন্তু তবু দমেনি সে।

তাসমিনা বলেন, “আমি সব ‍পুরস্কার বেচে দিয়ে একটা ভালো ঘোড়া কিনব।তবু আমি খেলা ছেড়ে দেব না।”

১৯৯৩ সাল থেকে ‘অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা’ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর দেশের ১০ জন আলোকিত নারীকে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য মনোনীত করা হয়।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*